“মহাজীবন” শিরোনামে সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এই চিত্র ও ভাস্কর্য প্রদর্শনী ছিল এক অনন্য সাংস্কৃতিক আয়োজন, যেখানে কবি সুকান্তের কবিতার ভাবনা, সংগ্রামচেতনা এবং মানবিক দর্শন শিল্পের বিভিন্ন মাধ্যমে নতুনভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। সুকান্ত ভট্টাচার্য-এর কবিতা বরাবরই যুগসংবেদী, শোষণবিরোধী এবং মানবমুক্তির স্বপ্নে উজ্জ্বল—এই প্রদর্শনী সেই চেতনারই এক সৃজনশীল রূপায়ণ।
এই অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সংঘ, কলকাতা জেলা কমিটি। তাদের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন বহু প্রতিভাবান শিল্পী, যারা সুকান্তের কবিতার পংক্তি, চিত্রকল্প এবং বিপ্লবী ভাবধারাকে ক্যানভাস ও ভাস্কর্যে ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রতিটি শিল্পকর্ম যেন কবিতার এক একটি দৃশ্যমান অনুবাদ—কখনও প্রতিবাদের ভাষা, কখনও স্বপ্নের রঙ, আবার কখনও সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি।
এই চিত্র ও ভাস্কর্য প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব নিরঞ্জন প্রধান। তাঁর উপস্থিতি অনুষ্ঠানে বিশেষ তাৎপর্য এনে দেয় এবং তিনি তাঁর বক্তব্যে সুকান্তের সাহিত্যিক অবদান ও বর্তমান সমাজে তার প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন।
প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ ছিল একটি সেমিনার, যেখানে বিশিষ্ট বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাতী ভট্টাচার্য এবং দেবদত্ত গুপ্ত। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে সুকান্তের কবিতার সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, তার শিল্পগুণ এবং আধুনিক সময়ে তার তাৎপর্য। তাঁরা আলোচনা করেন কীভাবে সুকান্তের কবিতা আজও তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে এবং সংগ্রামের পথে সাহস জোগায়।
এই প্রদর্শনীটি অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহাসিক নটী বিনোদিনী প্রদর্শশালা-তে, যা নিজেই বাংলা নাট্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ২০২৫ সালের ৯ থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত চলা এই আয়োজন দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেন।
সার্বিকভাবে, “মহাজীবন” প্রদর্শনী শুধু একটি শিল্প প্রদর্শনী নয়, বরং এটি ছিল এক গভীর সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধিক অনুষঙ্গ, যেখানে কবিতা, চিত্রকলা ও ভাস্কর্য একত্রে মিশে এক অনন্য শিল্পমাধ্যম তৈরি করেছে। এটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের প্রতি এক আন্তরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর আদর্শ পৌঁছে দেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস।